দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ বন্যার পানি প্রবেশ করে ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের নামা কাচিচর এলাকার গৃহবধূ শাহিদা বেগম বলেন, ‘হঠাৎ করেই বন্যার পানি এসে বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এখনো রান্না করতে পারিনি। ঘরের জিনিসপত্র ওয়াপদা বাঁধে তুলতে ব্যস্ত আছি। ঘরের ভেতরে পানি থাকায় ছোট ছোট বাচ্চারা খাটের ওপর বসে আছে। এখনো তাদের নিরাপদ জায়গায় নিতে পারি নাই।’
একই এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়ির চারপাশে পানি, ঘরের ভেতরেও পানি উঠে গেছে। গরু-ছাগল নিয়ে ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুবই বিপদে আছি। আজকের মধ্যেই সবকিছু নিরাপদ জায়গায় নিতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।’
এদিকে কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদের পানি কমতে শুরু করলেও আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী নদের পানি এখনো বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল রয়েছে। একই সঙ্গে ধরলা ও তিস্তা নদীর পানিও ধীরে ধীরে কমছে।
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য কাঁচা সড়ক তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় পরিবারগুলো গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে বিরাজ করছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনো প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যায়নি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘সকাল থেকে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী আরও তিন দিন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’
/অ